ব্রেকিং নিউজ

x


১৯ ঘণ্টার বিল লাখ টাকা, গাজী মেডিকেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২০ | ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

১৯ ঘণ্টার বিল লাখ টাকা, গাজী মেডিকেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর

 

মাত্র ১৯ ঘণ্টার অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারের ভাড়া বাবদ ৫৪ হাজার টাকা, বেড ভাড়া ১৫ হাজার টাকা আর ওষুধের বিল ২৭ হাজার টাকা মৃত এক রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করেছে খুলনার বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

অভিযোগ উঠেছে, এতকিছুর পরেও রোগীকে দেয়া হয়নি ভেন্টিলেশন। ছিলো না কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। করা হয়নি করোনা টেস্টও। তারপরও ওই রোগীকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

প্রায় একবছর যাবৎ শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন সাবেক পল্লী বিদুৎ কর্মকর্তা নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিরপুর ইউনিয়নের বাধাল গ্রামের মুন্সি নজরুল ইসলাম। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ আগস্ট স্বজনরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

প্রিয় মানুষটিকে সেখানেই চিরতরে হারিয়ে ফেলেন তারা। গাজী মেডিকেলে ১৯ ঘণ্টা অবস্থানকালে হাসপাতালটির উন্নত চিকিৎসা সেবার নামে অপচিকিৎসা, মানুষ ঠকানো ও সেবার নামে নগ্ন বাণিজ্যের নানা চিত্র নজরুল ইসলামের স্বজনদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সময় সংবাদের কাছে নজরুল ইসলামের পরিবার পরিজন দুঃখজনক সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। বলেন, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তারা নজরুল ইসলামকে গাজী মেডিকেলে নিয়ে যান। এসময় তাদের আপত্তি সত্ত্বেও করোনা পরীক্ষা ছাড়াই নজরুল ইসলামকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে তারা সিনিয়র কোন চিকিৎসককে দেখতে পাননি।

পরিবারের অভিযোগ, সদ্য যোগদানকারী চিকিৎসক-নার্সদের দ্বারা সেখানে চিকিৎসা করোনা হয়। চরম অবহেলা অপচিকিৎসায় তিনি মারা যান।

হাসপাতালে নেয়ার আগেও সজ্ঞানে স্বজনদের কাছে খাবার চেয়ে খাওয়া মানুষটির হাসপাতালে ভর্তির পর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক-নার্স তাদের কোন কথায় কর্ণপাত করেননি। ওই সময় হাসপাতালটির মালিকপক্ষের সঙ্গে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।

যার পরিণতিতে ১৯ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১৬ আগস্ট নজরুল ইসলাম মারা যান। এ সময় অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই যেন তাদের করার ছিল না। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের হাতে তুলে দেয় বিস্তর এক বিলের লিস্ট।

অতিরিক্ত বিলের কারণে চরম ক্ষুব্ধ নড়াইল সদরের বাধাল এলাকার নজরুল ইসলামের পরিবার।

নজরুল ইসলামের ভাই অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাবলু অভিযোগ করে বলেন, তার ভাই নজরুল ইসলাম শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নড়াইল থেকে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ভাই করোনা আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষা না করেই তাকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, বিলের মধ্যে বেড ভাড়া দেখানো হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। অথচ যে রুমে ভাইকে রাখা হয়েছিল, সেখানে মোট ৮ জন রোগী ছিলেন, ৮ জন রোগীর রুমে থাকা এক রোগীর বেড ভাড়া ১৫ হাজার টাকা হয় কিভাবে? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

নজরুল ইসলামের স্ত্রী নড়াইল সদরের সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসরিন আকতার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো পরীক্ষা না করেই তাকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অথচ এক বছর ধরে তিনি ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলেও তারা করোনা ইউনিটে ভর্তি করেন। এছাড়া মাত্র একদিনের চিকিৎসায় বিল করা হয়েছে ৭১ হাজার ৪০০ টাকা। পরে তারা ৩ হাজার ৪০০ টাকা কম নেয়।

তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেন বাবদ ৫৪ হাজার টাকা, ৮ জন রোগীর সঙ্গে থাকা বেড ভাড়া ১৫ হাজারসহ ৭১ হাজার ৪০০ টাকার একটি বিল ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও ২৭ হাজার ওষুধ বিল ও বুকের সিটিস্ক্যান বাবদ ৮৫০০ এবং ১০০০ ভর্তি বিল রয়েছে তাদের।

প্রতারণা, অপচিকিৎসা ও চিকিৎসার নামে মানুষের জীবন নিয়ে গাজী মেডিকেলের এমন নির্লজ্জ ব্যবসায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মর্মাহত নজরুল ইসলামের স্বজনরা। সবাই এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২০

protidin-somoy.com |

Development by: webnewsdesign.com