ব্রেকিং নিউজ

x


হাজীগঞ্জে নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট, সকল পণ্যে বড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা

রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০ | ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

হাজীগঞ্জে নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট, সকল পণ্যে বড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা

করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ যখন দিশাহারা, অন্যদিকে আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র কওে একশ্রেণির অসাধু অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে অধিক মুনাফা আদায় করছে। তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

খবর নিয়ে দেখা গেছে, হাজীগঞ্জ বাজারসহ আশ-পাশের কয়েকটি বাজার ও ইউনিয়নের বাজারগুলোতে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। আদা, রসুন, পিয়াজ, ছোলা, তেল, আটাসহ নিত্যপণ্যের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধির ফলে ক্রেতাদের মাঝে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

রবিবার ১৯ এপ্রিল হাজীগঞ্জ বানিয়াপট্টি ও বাজারের প্রধান সড়কে অবস্থিত কয়েকটি মুদি দোকানে ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, চালসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।

 

এ সময় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, দেশের কোথাও চালের সংকট নেই। শুধু মাত্র হাজীগঞ্জ বাজারেই চালের সংকট দেখানো যাচ্ছে। গত কয়েকদিনে বাজারে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম অনেক বেশি, দোকানে সব পণ্য পাওয়াও যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা তাদেও গোডাউনে এসব মজুদ করে রেখেছেন। অতিরিক্ত মূল্য হওয়ায় চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য না কিনেই বাড়ি চলে যাচ্ছিন অনেকেই। তাই তারা বাজারে কৃত্রিম সংকটের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

এদিকে করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র হাজীগঞ্জ পাইলট হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে স্থানান্তরকৃত বাজারে মাংস ব্যবসায়ীদের দোকানে গিয়ে দেখা যায় মূল্য তালিকা নেই। গরুর গোশত ৭০০ টাকা বিক্রি করছে। ব্যবসায়ীদের এ অসংগতির কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানায়, এভাবেই বিক্রি করতে হয়। সবাই এই দামেই বিক্রি করে।

 

হাজীগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে শ্রমিক ও পরিবহন কমে যাওয়ায় মোকাম থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে নিত্যপণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এমনকি পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম একটু বেশি। এর প্রভাব পড়েছে বাজারগুলোতে।

 

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, বাজারে কোন পণ্যের সংকট নেই। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশী মুনাফার আশায় দাম বৃদ্ধি করছে। প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। তথ্য নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করছি।

 

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, পরিবহন সংকট নেই, তবে লেবার সংকট আছে এটা সত্য। এরপরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়াটা অযোক্তিক। যদিও আমাদের জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম সক্রিয় আছে। এরপরও আমরা আরো জোরালো ভাবে মনিটরিং করবো। যাতে করে দেশের এই ক্রান্তিকালে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে।

বাংলাদেশ সময়: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০

protidin-somoy.com |

Development by: webnewsdesign.com