ব্রেকিং নিউজ

x


‘শূন্য’ ডলারে নেমে এসেছে ব্যারেল প্রতি তেলের মূল্য : যুক্তরাষ্ট্রে

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০ | ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

‘শূন্য’ ডলারে নেমে এসেছে ব্যারেল প্রতি তেলের মূল্য : যুক্তরাষ্ট্রে

করোনার থাবায় বিশ্ব আজ টালমাটাল। আর সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কমে দেশটির স্মরণকালের ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) মার্কিন শেয়ারবাজারে অপরিশোধিত তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে ২০ শতাংশ। ফলে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ ডলারের নিচে। তবে ফিউচার মার্কেটে আগামী ‘মে’ মাসের জন্য করা চুক্তিতে তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি শূন্য ডলারেরও নিচে। দেশটিতে তেলের এতোটা দরপতন আর কখনও হয়নি। মূলত করোনাভাইরাসের জেরে বিশ্বজুড়ে টানা লকডাউনের ফলে চাহিদা কমে যাওয়ায় এ দরপতন দেখছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী।

তেলের বেচাকেনা চলে ভবিষ্যত মূল্যের ওপর নির্ভর করে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মে মাসের ভবিষ্যত চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের হাতে থাকা তেলের মজুদ ছেড়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

দরপতন হয়েছে ৯০ শতাংশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, ফিউচার মার্কেটে আগামী মে মাসের জন্য করা চুক্তিতে তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি শূন্য ডলারেরও নিচে। এর অর্থ হচ্ছে, উৎপাদকরা এখন হাতে থাকা তেল ছেড়ে দিতে উল্টো ক্রেতাদের দাম পরিশোধ করছেন।

উৎপাদকদের আশঙ্কা, আগামী মে মাসের মধ্যেই তাদের মজুদ ক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন অতিরিক্ত সরবরাহ মজুদ করতে তারা ট্যাংকার ভাড়া করতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ, উৎপাদকরা তেলের দাম মাত্রাতিরিক্ত কমিয়ে সংরক্ষণাগারের খরচ কমানোর চেষ্টা করেছেন। মূলত এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে দাম ঋণাত্মক পর্যায়ে বা শূন্য ডলারের নিচে পৌঁছেছে।

একদিকে আগের তুলনায় মানুষ ভ্রমণ সীমিত করায় তেলের চাহিদা কমে গেছে। অন্যদিকে তেলের মজুতকেন্দ্রগুলো পরিপূর্ণ হয়ে আছে। এ দুইয়ের ফলে বাজারে এমন ভয়াবহ চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

‘ন্যাশনাল এভারেজ গ্যাস প্রাইজেস’ এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন রাজ্য জুড়ে দেখা গেছে যানবাহনের সাধারণ গ্যাসের দাম গ্যালন প্রতি গড়ে ১ দশমিক ৮১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পতনের মাত্রা বেশি হলেও কমবেশি বিশ্বজুড়েই চলছে তেলের দরপতন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সপ্তাহে আলোচনা শুরু হয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে। গত ১৩ এপ্রিল নানা আলোচনা জল্পনার পর ওপেক প্লাস ও তেল উৎপাদক মিত্রদেশগুলো উৎপাদন কমানোর ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছায়। দৈনিক ৯৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর ব্যাপারে একমত হয় শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রফতানিকারকদের এই জোট।

অবশ্য ইউরোপের বাজারে তেলের দাম সোমবার শূন্যের উপরে ছিল। ওই বাজারে মাত্র ৯ শতাংশ কমে গিয়ে জুন মাসে হস্তান্তরের জন্য তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপের বাজারে নর্থ সি ব্রেন্ট তেলের দামকে সাধারণত আমেরিকা ছাড়া অবশিষ্ট বিশ্বের তেলের দামের মানদণ্ড ধরা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে দর পতনের মাত্রা বেশি হলেও কমবেশি বিশ্বজুড়েই চলছে তেলের দরপতন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে আলোচনা শুরু হয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে। গত ১৩ এপ্রিল আলোচনাপর ওপেক প্লাস ও তেল উৎপাদক মিত্রদেশগুলো উৎপাদন কমানোর ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছায়। দৈনিক ৯৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর ব্যাপারে একমত হয় শীর্ষ তেল উৎপাদক ও রফতানিকারকদের এই জোট।
করোনা হানায় পুরো বিশ্ব স্থবির। প্রতিটি ক্ষেত্রে শুধুই দরপতনের শঙ্কা বিরাজমান। করোনার থাবা প্রতিটি সেক্টরে পড়েছে।

ওয়ার্ল্ডওমিটার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত প্রায় আট লাখ (৭ লাখ ৯২ হাজার) মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। মারা গেছেন ৪২ হাজারের বেশি (৪২ হাজার ৫১৪ জন)। শুধু নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেই আক্রান্ত হয়েছে আড়াই লাখের বেশি। মারা গেছে প্রায় ১৯ হাজার (১৮ হাজার ৯২৯ জন), যা দেশটির মোট মৃতের প্রায় অর্ধেক।

গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আরও ২৮ হাজার আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন প্রায় দুই হাজার (১ হাজার ৯৩৯ জন)।

দেশটিতে প্রতিদিনই কয়েক হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে করোনাভাইরাসে। সহসা এ সংখ্যা কমারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আশঙ্কা কতটুকু সত্য হয়, তাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: সিএনএন, বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা ও আল জাজিরা।।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

protidin-somoy.com |

Development by: webnewsdesign.com