ব্রেকিং নিউজ

x


অভিনেত্রী নিপুণ আক্তার

শনিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২২ | ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ

অভিনেত্রী নিপুণ আক্তার

সিনেমা না থাকলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি বাঁচানো সম্ভব না : নিপুণ
শাহজাদা সেলিম রেজাশাহজাদা সেলিম রেজা

সা. সম্পাদক পদের চেয়ার দখল করিনি, দখলে আমি অভ্যস্ত না : নিপুণ

চলতি বছর বিএফডিসিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অভিনেতা জায়েদ খানের বিপরীতে সাধারণ সম্পাদক পদে অংশ নিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন অভিনেত্রী নিপুণ আক্তার। পদটিতে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তোলার পর এক পর্যায়ে আদালতে গড়ায় বিষয়টি। যার রায় এখনো ঝুলে রয়েছে আদালতে। আবার অভিযোগ রয়েছে, আদালত থেকে চূড়ান্ত রায় না আসার পরও পদটির দায়িত্ব পালন করছেন নায়িকা। এছাড়াও পদটির চেয়ার দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি ‘চ্যানেল 24’-এর সঙ্গে আলাপকালে প্রথমেই সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার দখলের কথা অস্বীকার করলেন নিপুণ। তিনি বলেন, “চেয়ার কি কখনো দখল করা যায়, আমি ঠিক জানি না। দখল সেটাই হয়, যদি অনেক লোকজন নিয়ে কিছু দখল করা হয়। আমি তো একাই যাচ্ছি-আসছি। কোনো চেয়ার দখল করিনি। দখলে আমি অভ্যস্ত না। যেটা সুস্থভাবে আসে সেটাতে অভ্যস্ত আমি।”

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জায়েদ খানের অভিযোগ রয়েছে, আদালত অবমাননা করে দায়িত্ব পালন করছেন আপনি। আদালত অবমাননার প্রশ্ন তুলতেই নিপুণ বলেন, “আদালত তো তার (জায়েদ খান) রায়কে স্টে করেছে। স্টে করে যে ছিল, সে কন্টিনিউ করবে। এই কথা আমি অনেকবার বলেছি। আদালতেও কথা হয়েছে।”

তবে অভিনেতার প্রতিক্রিয়া, সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় যেভাবে চলার কথা সেভাবে চলবে সংগঠন। কিন্তু নিপুণ তা মানেননি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে কথা বলেছেন জায়েদ খান। কিন্তু সংগঠন চালানোর ক্ষেত্রে পদবি কোনো মুখ্য বিষয় না, এমনটাই জানালেন নিপুণ। তিনি বলেন, “একটা সংগঠন যদি চালাতে হয় তাহলে সেখানে আমাকে বসতে হবে? তিনি (জায়েদ খান) তো চার বছর ছিল। তাহলে তিনি জানে কোথায় কী হচ্ছে, কী লাগবে? কেউ তো তাকে আসতে না করেনি। তিনি তার মতো করে আসতে পারে।”

আগে সংগঠনের দায়িত্ব পালনের সময় অভিনেতা জায়েদ খান
আগে সংগঠনের দায়িত্ব পালনের সময় অভিনেতা জায়েদ খান

“আমি বলব, আমি হয়তো তার থেকে বেশি সিনেমা করেছি, এ কারণে শিল্পীদের সঙ্গে আমার বেশি পরিচয়। আর তিনি (জায়েদ খান) সাংগঠনিকভাবে বসে সেভাবে পরিচয়। দেখলাম রোজার ঈদে আসেনি সে। আবার প্রতি মাসেই সমিতিতে বিভিন্ন শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে তো সে একজন শিল্পী হিসেবেও আসতে পারে। কিন্তু তিনি তা করেননি”—বলেও যোগ করেন চিত্রনায়িকা।

সাধারণ সম্পাদকের পদটি আদালতে ঝুলে থাকার পরও দায়িত্ব পালন করায় এর আগে এক সাক্ষাৎকারে নিপুণকে নির্লজ্জ বলেছিলেন জায়েদ খান। এ কারণে এফডিসিতে আগের মতো নিয়মিত যাওয়া-আসা করেন না বলে জানিয়েছিলেন অভিনেতা। জায়েদ খানের সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কঠোর জবাব দেন নিপুণ। বলেন, “এফডিসিতে আসতে যদি খুব লজ্জা লাগে তাহলে বোরকা পরে আসুক। আমাদের জানাক, কাভার করে এসে জাস্ট চলে যাব।”

 

প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে ভোটগ্রহণের পর প্রায় এক বছর হতে হচ্ছে সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। অভিনেত্রী নিপুণ সেই প্যানেল থেকেই অংশ নিয়েছিলেন নির্বাচনে। আবার সাধারণ সম্পাদকের পদটির রায়ের ব্যাপারও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই সময়ে চলচ্চিত্র, সংগঠন ও শিল্পীদের কতটুকু উন্নয়ন হচ্ছে বা উন্নয়নে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা—এই প্রশ্নের জবাবে অভিনয় শিল্পী হিসেবে নিপুণ জানালেন, কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তার কাছে মনে হচ্ছে না শিল্পীরা যে সুযোগ-সুবিধা পেত বা কোনো সাংগঠনিক কাজ থেমে রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। সমিতিতে আইপিএস লাগানো হয়েছে। এই সময়ে কখনো তিনি এটা ভাবেননি যে, ‘আমি যদি সেখানে না থাকি তাহলে কেন এটা করব।’ আর উন্নয়ন করতে বেশি কিছু লাগে না। মন থেকে করতে হয় বলে মতামত নিপুণের।

‘পিতার আসন’ সিনেমার অভিনেত্রী দেশের সিনেমা হল ও চলচ্চিত্রের উন্নয়নে বেশ সন্তুষ্ট। যা তার বক্তব্যেই উঠে আসলো। তিনি বলেন, “সিনেমা হলের চিত্রটা এখন ভিন্ন। আমি বলব আলহামদুলিল্লাহ্‌। এটার ওপর মানুষের যেন নজর না পড়ে (হাসতে হাসতে)। এত ভালো যে, আমি যদি প্রতিদিন এফডিসিতে যাই, আমার কাছে দশটি করে স্ক্রিপ্ট আসছে। স্ক্রিপ্ট সব ভালো, কাস্টিং ভালো। এমনটাও না যে এসব দশ-বিশ লাখ টাকা বাজেটের। সেটাও না, সবকিছু ভালো। আমি মনে করি এফডিসির ওপর আল্লাহর রহমত এসেছে। তা না হলে এতদিন পরে বাংলা সিনেমার এই জোয়ার। এই জোয়ারে কিন্তু আমরা দেখছি ইংলিশ সিনেমাও চলছে না। চারদিকে তাকালে দেখা যায় সবাই কাজে ব্যস্ত।”

 

এদিকে দেশে মহামারি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় হয়েছে সিনেমা হল চালু হওয়ার। এই সময়ে সিনেমাপ্রেমীদেরও হলমুখি হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও এখনো তা শতভাগ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি, তবে তা চলচ্চিত্রের জন্য ইতিবাচক বলা যায় বলে মন্তব্য হল সংশ্লিষ্টদের। এতে প্রযোজক-পরিচালকরা বেশ খুশি এবং অনেকে নতুন হল চালুর কথাও ভাবছেন। আবার সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রের জন্য একটি ফান্ড হচ্ছে। সেখানে একটি মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন নিপুণ। ভবিষ্যতে যদি আদালত থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অন্যকে দেয়া হয়, সেই সময় শিল্পীদের জন্য কীভাবে কাজ করবেন জানতে চাইলে অকপটে নিপুণ বলেন, “আগেও বলেছি, সিনেমা যদি না থাকে (বাঁচে) তাহলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি বাঁচানো সম্ভব না। সিনেমা বাঁচাতে হবে, কাজ আনতে হবে। তারপরই সমিতি রান করবে। সিনেমা না থাকলে সমিতি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে, চলচ্চিত্রে সুদিন এসেছে। আর যেটাই হোক, যাই হোক, আমি চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করব। কয়েক জায়গায় বলেছি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সিনেপ্লেক্স করার ফান্ড দিচ্ছে। এখন অনেকেই সিনেপ্লেক্স করার জন্য উৎসাহিত হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন সম্ভব।”

 

এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সময় নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ আক্তার’ প্যানেল জানিয়েছিলেন, তারা ক্ষমতায় আসলে এফডিসিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আসবেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এফডিসির চিত্র পাল্টে যাবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন নিপুণ। ভোটে সভাপতি হিসেবে ইলিয়াস কাঞ্চন জয় লাভ করেছে। আবার সাধারণ সম্পাদকের পদটি আদালতে ঝুলন্ত। এই পরিস্থিতিতে এফডিসিতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন কতটুকু অগ্রসর তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

 

নির্বাচনী এই ইশতেহারের কথা মনে করিয়ে দিতেই হাসিমুখে নিপুণ জানালেন, বারবার বলা হচ্ছে আদালত মানছেন না তিনি। তাই প্রকৃত অর্থেই আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। রায়ের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাবেন তারা। এখনো তার চাওয়া এফডিসিতে প্রধানমন্ত্রী পা দিক। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এফডিসির জায়গা স্বর্ণের খনিতে রূপ নেবে বলে অভিমত অভিনেত্রীর।

বাংলাদেশ সময়: ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২২

protidin-somoy.com |

Development by: webnewsdesign.com